মিয়ানমারের জান্তা সরকারবিরোধী একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের একটি গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর উদ্ধার কাজ করছেন উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়রা। ছবি: এপি
মিয়ানমারের জান্তা সরকারবিরোধী একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের একটি গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭৫ জন।
চীনা সীমান্তের কাছে অবস্থিত কাওং টাট গ্রামে স্থানীয় সময় রবিবার (৩১ মে) দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে।
একজন উদ্ধারকর্মী সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে মোট ৬টি শিশু ছিল। এই শিশুগুলোর মধ্যে এক বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল।
এদিকে, বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণে কাওং টাট গ্রামের ২০০টি বাড়ি এবং প্যান লন গ্রামের কাছে আরও ১০০টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস করেছে।
এলাকাটির নিয়ন্ত্রণকারী তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) জানিয়েছে, খনি ও পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত বিস্ফোরক বিস্ফোরিত হয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
তারা বলেন, এই বিস্ফোরণের কারণে বহু স্থানীয় গ্রামের বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং তাদের বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এর আগে বিবিসিকে জানিয়েছিল যে, এই বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন মারা গেছেন। তবে আল জাজিরা টিএনএলএ মুখপাত্রের বরাত দিয়ে তাদের খবরে অন্তত ৩৯ জন মৃত্যু এবং ৭৫ আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মাটি ও ধ্বংসস্তূপের এক বিশাল গর্তকে ঘিরে রেখেছে বিধ্বস্ত বাড়িঘরগুলো। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাছ থেকে তখনও ধোঁয়া উড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ ও বিশৃঙ্খলার আরও ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন।
ওই গ্রামের এক বাসিন্দা সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে লিখেছেন, প্রথমে অনেকেই ভেবেছিলেন বিস্ফোরণটি বিমান হামলার কারণে ঘটেছে।
তিনি লিখেছেন, ‘নিছক ভাগ্যের জোরে আমার ফোনটি আমার জীবন বাঁচিয়েছে। আমি আমার শোবার ঘরে বসে নুডলস খাচ্ছিলাম আর ফোন দেখছিলাম। যদি আমি ওই সময়ে কোনোভাবে রান্নাঘরে থাকতাম, তাহলে হয়তো আজ আমি বেঁচে থাকতাম না।’
তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের কারণে তার পায়ে সামান্য আঘাত লেগেছে, তবে তার বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
বিস্ফোরণের পরের আতঙ্ক ও শোকের দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষজন অসহায়ের মতো কাঁদছিল। অনেকে নিরুপায় হয়ে বাবা-মাকে ডাকছিল। মনে হচ্ছিল যেন পুরো পৃথিবীটা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’